১. ভূমিকা: “জীবন” শব্দের গভীরতা

“জীবন” — মাত্র দুটি মাত্রার শব্দ, কিন্তু এর গভীরতা এমন যে, মানুষ তার গোটা জীবন খরচ করে এর মানে বুঝতে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমরা একটানা চলতে থাকি একটি পথ ধরে, যার নাম জীবন। কিন্তু এই চলার পথে, প্রতিটি পদক্ষেপে যে অভিজ্ঞতা, বেদনা, আনন্দ, সাফল্য, ব্যর্থতা, প্রশ্ন ও উত্তর—সবকিছুই আমাদের শিক্ষা দেয় এক একটি নতুন মানে। কেউ ভাবে জীবন শুধুই বেঁচে থাকার নাম, কেউ ভাবে এটি একটি দায়িত্ব, কেউ ভাবে এটি আনন্দের উৎস আবার কেউ ভাবে জীবন একটি পরীক্ষা।
এই ভাবনাগুলোর মাঝে সত্য লুকিয়ে আছে। জীবন আসলে একটি পাঠশালা—একটি চলন্ত স্কুল, যেখানে আমরা প্রতিনিয়ত শিখি। জন্মের পর থেকেই আমরা শেখা শুরু করি, প্রথমে ভাষা, তারপর সমাজ, নিয়ম, ভালো-মন্দের পার্থক্য, মানবতা, সম্পর্ক, দায়িত্ব ইত্যাদি। যে যত বেশি শেখে, তার জীবন তত বেশি অর্থবহ হয়ে ওঠে। আবার, যে শেখে না, তার জীবন একরকম বৃথা চলে যায়।
“জীবনের গভীরতা” বললে প্রথমেই মাথায় আসে—এই জীবন কী উদ্দেশ্যে? কেন আমরা জন্মেছি? আমরা কিসের জন্য কাজ করছি? কিসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি? এসব প্রশ্নই আমাদের ভাবতে শেখায় এবং এই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় উপলব্ধি। উপলব্ধিই হচ্ছে জ্ঞান, আর জ্ঞান হচ্ছে জীবনের আলো।
আবার, জীবন অনেকটা নদীর মতো। কখনও শান্ত, কখনও উত্তাল। এই নদী যেমন নিজের গতিতে চলতে থাকে, তেমনি জীবনও চলতে থাকে—চায় না তা কেউ থামিয়ে দিক। জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না। এটি প্রতিনিয়ত সামনে এগিয়ে যায়। আমাদের কাজ হলো এই স্রোতের সাথে সঠিকভাবে তাল মিলিয়ে চলা। যারা এ কাজটা পারে না, তারা মাঝপথে হারিয়ে যায়, ক্লান্ত হয়, ভেসে যায় দিশাহীনতায়।
জীবন মানেই সংগ্রাম। এই সংগ্রামের নামই শিক্ষা। আমরা হয়তো স্কুলে গিয়ে শিক্ষিত হই, কিন্তু বাস্তব জীবনে সেই শেখা পরীক্ষার মুখোমুখি হয়। অনেক সময় জীবনের পাঠ আমাদের বইয়ে লেখা পাঠের থেকেও গভীর ও বাস্তব হয়। তাই প্রকৃত শিক্ষা জীবনের মধ্য দিয়েই আসে।
অনেকেই জীবনের কষ্টকে অভিশাপ ভাবেন। কিন্তু, প্রকৃতপক্ষে জীবনের কঠিন সময়গুলোই আমাদের সবচেয়ে বেশি শিখায়। ব্যর্থতা শেখায় ধৈর্য, কষ্ট শেখায় সহানুভূতি, একাকীত্ব শেখায় আত্মজ্ঞান, এবং প্রতিকূলতা শেখায় কিভাবে নিজেকে গড়ে তুলতে হয়।
জীবনকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হলে দরকার—সময়, নিরবতা, পর্যবেক্ষণ ও চিন্তা। আমাদের চারপাশের পৃথিবী, সমাজ, মানুষ, প্রকৃতি—সবকিছুই আমাদের কিছু না কিছু শেখায়, যদি আমরা শিখতে চাই।
সবশেষে বলা যায়, “জীবন” এক মহৎ উপহার। যেটি আমরা যেমন ব্যবহার করবো, ঠিক তেমন ফলাফল পাবো। এটি যেমন গভীর, তেমনি রহস্যময়। তাই আসুন, আমরা জীবনকে শুধু কাটিয়ে না দিয়ে, বুঝে, উপলব্ধি করে, ভালোবাসা দিয়ে, জ্ঞান দিয়ে ও আদর্শ দিয়ে গড়ে তুলি।
0 মন্তব্যসমূহ